
মঙ্গল গ্রহের পাহাড়ি ঢালে লবণাক্ত পানির প্রবাহ থাকতে পারে বলে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিষয়টি নিশ্চিত হলে সৌরজগতের লাল এই গ্রহটিতে প্রথমবারের মতো তরল পানির সন্ধান মিলবে। সেই সঙ্গে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা প্রবল হবে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) গত বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানায়।
রহস্যময় মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে নাসার পাঠানো ‘মার্স রেকনিস্যান্স অরবিটার’ তরল পানির অস্তিত্ব সম্পর্কে এ তথ্য পাঠিয়েছে।
নাসার ‘মার্স এক্সপ্লোরেশন’ কর্মসূচির প্রধান বিজ্ঞানী মাইকেল মেয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘মঙ্গলে পানির প্রবাহ থাকার পক্ষে বারবার ও পূর্বানুমানযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
নাসা জানায়, ২০০৬ সাল থেকে মঙ্গল গ্রহকে পরিক্রমণকারী ‘অরবিটার’ দৃশ্যত মঙ্গলের বেশ কয়েকটি স্থানে পানির প্রবাহ চিহ্নিত করেছে। গ্রহটির বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে এই পানির প্রবাহগুলো সক্রিয় থাকে।
মঙ্গল গ্রহে এর আগে বরফের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলেও তরল পানির সন্ধান মেলেনি। ওই বরফ পাওয়া গেছে গ্রহটির মেরু অঞ্চলে। যেকোনো ধরনের প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পানি অবশ্য প্রয়োজনীয় বলে মঙ্গলে পানির অস্তিত্ব সেখানে অন্তত আদিম ধরনের প্রাণ থাকার সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাঁদ ও গ্রহবিষয়ক গবেষণাগারের বিজ্ঞানী আলফ্রেড ম্যাকইওয়েন বলেন, ‘অরবিটারের পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া তথ্য-প্রমাণগুলো বিশ্লেষণ করলে সবচেয়ে ভালো যে ব্যাখ্যাটি পাওয়া যায় তা হচ্ছে, এগুলো লবণাক্ত পানির প্রবাহ। তবে এটি নিশ্চিত প্রমাণ নয়।...এটা এখনো রহস্যজনক। তবে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই রহস্যের সমাধান করা সম্ভব।’ ম্যাকইওয়েন জানান, গত তিন বছরে অরবিটারের ‘হাই রেজুল্যুশন ইমেজিং সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট’-এর ধারণ করা ছবিতে গ্রহটির সাতটি স্থানে পানিপ্রবাহের ‘হাজার হাজার’ চিহ্ন থাকার তথ্য মিলেছে। এ ধরনের সম্ভাব্য পানিপ্রবাহের আরও ২০টি স্থান শনাক্ত করা হয়েছে।
নাসার অরবিটার প্রকল্পের বিজ্ঞানী রিচার্ড জুরেক বলেন, পৃথিবীর সঙ্গে তুলনা করলে কোনো তরল পদার্থের প্রবাহ ছাড়া মঙ্গলের ছবির মতো ঢালের মধ্যে ও রকম দাগের চিহ্ন সৃষ্টি হওয়া কঠিন।
নতুন এসব তথ্য-প্রমাণ ও পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে সায়েন্স সাময়িকীতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞানের অধ্যাপক লিসা প্র্যাট বলেন, ‘আমার মতে এটা সত্যিই রোমাঞ্চকর এক আবিষ্কার। কারণ, এটি নিশ্চিত হলে এই প্রথমবারের মতো মঙ্গলে প্রাণের অনুকূল পরিবেশের বিষয়টি নিশ্চিত হবে।’
সম্প্রতি ৩০ বছরের নভোখেয়া (শাটল) অভিযান সমাপ্তির পর নাসা মঙ্গল অভিযানের প্রতি নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রহটিতে মানুষ নিয়ে যাওয়ার মতো নভোযান তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। এএফপি।
No comments:
Post a Comment