Sunday, April 8, 2012

ধারাবাহিক বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি “ঘরে ফেরার গান” (ক্রম- ২)


“তুমি কিভাবে বুঝলে আমি এখানে?” মাইক জানতে চাইল।
“তোমার ঘর খালি দেখে মনে হল তুমি হয়তো এখানে।”
মাইক কিছুই বলল না, শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
সানি তরল গলায় হেসে প্রশ্ন করল, “আমি কখনো বুঝতে পারি না তুমি কেন প্রতিদিন অর্থহীনভাবে এখানে বসে সূর্যাস্ত দেখ?”
মাইক কিছু না বলে শুধু হাসল।
“তুমি যে অর্বাচীনের মত কাজ কর, এটা তো কোন বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নয়।” সানি এবার যেন একটু কঠোর হল। এবারও মাইক কিছু বলল না। শুধু হাসল। বয়স্করা শিশুদের মজার মজার প্রশ্ন শুনে যেভাবে হাসে মাইকও ঠিক সেভাবেই হাসল।

“তুমি কি মনে কর, তোমার এই অদ্ভুত আবেগের কোন মানে আছে?” সানি জানতে চায়। ওরা তখন ডান দিকের সিঁড়িঁ বেয়ে নেমে সামনের ছোট্ট হলঘরে এসে হাজির হলো।

ঢুকতেই দেখা গেল সাইরাজ প্রাচীন বৃক্ষের ফসিল দিয়ে বানানো আসনে বসে গোলাকৃতি গ্রানাইটের টেবিলের উপর মাথা ঠেকিয়ে রয়েছে।

মাইক আর সানি অনুরূপ আসনে বসে পড়ল। শব্দ শুনে সাইরাজ মাথা তুলে একবার ওদের দিকে তাকায় তারপর, চেয়ারে হেলান দিয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে ছাদ দেখতে থাকে। হঠাৎ-ই সানির দিকে তাকিয়ে ডাকল, “সানি।”

“কি?”
“একটা কথা শুনবে?” সাইরাজ সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়ে।
“বল।”
“তোমার কি মনে হয় আমাদের এই বদ্ধ জীবনের কোন অর্থ আছে? কোন মুক্তি আছে?”

সাইরাজের গলাল স্বরে এক ধরনের হাহাকারের আভাস পাওয়া যায়। ক্ষণিকের জন্য হলেও মাইক আর সানি থমকে যায়।
মাইক উঠে এসে সাইরাজের পাশে বসে পিঠে হাত বুলিয়ে বলল, “না সাইরাজ সেটা সত্যি নয়।”
“কেন?”
“যখন মানুষের কোন কিছুু করার আকক্সক্ষা থাকে না, যখন মানুষের সামর্থ বলতে অবশিষ্ট আর কিছুই থাকে না, শুধু তখনই মানুষের জীবন অর্থহীন হয়ে যায়। মানুষের হাত গুটিয়ে থাকতে হয়।” মাইকের গলাও ধরে আসে, আবেগতাড়িত হয়ে বলে ওঠে, “আমাদের এখনও অনেক কিছু করার আছে?”
“কি করার আছে?”
“বেঁচে থাকার জন্য আমাদের অনেক কিছুই করতে হবে। প্রতিটি মুহুর্তে আমাদের নতুন নতুন বিপদ মোকাবেলা করতে হবে?”
“আমরা কি শুধু বেঁচে থাকার জন্যই বেঁচে থাকব?”, সাইরাজ যেন আবারও হতাশ হয়ে পড়ল।
সাইরাজের প্রশ্নের উত্তর মাইক দিতে পারে না। তবুও সাইরাজ বলে, “কার জন্য সমস্যার মোকাবিলা করব?”
“অনাগতদের জন্য।”
“অনাগতদের জন্য ?” সাইরাজের চোখে বিস্ময় ফুটে ওঠে। তারপর অপার্থিব ভঙ্গিতে হেসে পাল্টা প্রশ্ন করে, “তোমার কি মনে হয় পৃথিবীর অবস্থা আবার আগের মতো হবে? মানুষ আবার পথে হাঁটবে ? খোলা প্রান্তরে শুয়ে রাতের আকাশ দেখবে?” সাইরাজ প্রায় কেঁদেই ফেলল। দু’হাত দিয়ে সে তার নিজের গাল দু’টো চেপে ধরল।
“দেখবে।” মাইক সান্ত্বনা দেয়, “আমি প্রতিদিন এ স্বপ্ন দেখি। দেখতে আমার ভাল লাগে।”
“মিছে স্বপ্ন দেখো না মাইক, গত বিশ বছর ধরে আমরা শুধুমাত্র এই একটি ভবনের মাঝেই আটকে আছি। বিশ বছর আগে এখানে একটি সুন্দর বসতি ছিল, মানুষের কোলাহলে জনপথ ছিল মুখরিত, আর মানুষের মধ্যে ছিল প্রাণ ভরা ভালবাসা।”
“মানুষের মধ্যে এখনও ভালোবাসা আছে। ভালোবাসা কখনও হারিয়ে যায় না।”
“থাক না সে সব কথা।” মাইক বাধা দেয়।
“না থাকবে কেন? তেজস্ক্রিয়তার জন্য কয়েকদিনের মধ্যেই দশ হাজার জনসংখ্যা এসে দাঁড়ালো মাত্র হাজারে, আর তারপর থেকে বন্দী। বাইরে বেড়াতে হলে তেজস্ক্রিয় নিরোধক পোষাক পড়তে হয়। সমুদ্র এত কাছে থাকার পরও আমারা সেখানে নামতে পারি না। ছুঁতে পারি না, শুধু দূর থেকে দেখেই পৃথিবীর আশা করতে পারো?” একটা দীর্ঘ লাইন চরম হতাশ কণ্ঠে বলে মাইককে জড়িয়ে ধরে।
মাইক কিছুক্ষণ পিঠে হাত বুলিয়ে তার স্বপ্নের কথা বলে, “হ্যাঁ পারি। কারণ বেঁচে থাকতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে। মানুষ স্বপ্ন দেখতো বলে একসময় সে সভ্যতার শীর্ষে, স্বর্ণশিখরে উঠতে পেরেছিল।”
“আর পরিণামে সে পৃথিবীকে শেষ করে দিল।” সাইরাজ মাইকের কথা শেষ করতে দেয় না।

যখন আবেগতাড়িত কথা বলতে সবারই চোখে জল এসে যায় ঠিক তখনই মহামান্য জ্যাক জে শ্র“ফ, যিনি পৃথিবীর এই একমাত্র মনুষ্যবসতির প্রধান, প্রচণ্ডবেগে আলোচনা কক্ষে প্রবেশ করেন। প্রবেশ করেই তিনি চিৎকার করে ওঠেন। মহামান্য জ্যাক জে শ্র“ফের জন্য ব্যাপারটি প্রায় স্বাভাবিক, তবুও সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গেল।

সানি উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জানতে চাইল, “কী হয়েছে, মহামান্য?”
মাইক জানতে চাইল, “মহামান্য কেন আপনি গত দু’সপ্তাহ নিজেকে গবেষণায় আটকে রেখেছিলেন? আমরা ভেবেছিলাম আপনি বোধ হয় আপনার গবেষণা নিয়ে কোন দূর্ঘটনায় পড়েছেন। আমরা নিশ্চিত হবার জন্য হয়তো অচিরেই আপনার গবেষণাগারের দরজা ভেঙ্গে ফেলতাম।”
“ওহ! কি আনন্দ, আমি কি আগে কখনও এটা ভাবতে পেরেছি, নাকি কোন মানুষ কোনদিন পেড়েছে?”

মহামান্য জ্যাক জে শ্র“ফের কণ্ঠে তখন খুশির প্রতিচ্ছবি আর চোখে তখন আনন্দে জ্বলজ্বল করছে। তিনি কথা শেষ করার আগেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সানিকে জড়িয়ে ধরলেন, যে বেশিরভাগ সময়েই মহামান্যের মাত্রাতিরিক্ত আনন্দের বহিঃপ্রকাশের শিকার হয়। যখন তিনি সানিকে ছেড়ে দিলেন তখন সে জানতে চাইল, “মহামান্য এসবের মানে কি?”

মহামান্য’র মুখ তখন রক্তিমাভ, চুল অগোছালো অথচ চেহারার মধ্যে বিরাজ করছিল অপ্রাকৃতিক উত্তেজনা। তার চোখ একই সঙ্গে পাণ্ডিত্যপূর্ণ এবং ক্লান্ত। “দুদিনের মধ্যেই আমরা সবাই পৃথিবী ছেড়ে চলেযেতে পারি। দু’বছরের মধ্যে সুবিশাল মহাশূন্যযান তৈরি করে অনন্ত মহাশূন্যযাত্রা করতে পারি। ভাগ্য ভালো হলে আমাদের কোন প্রজন্ম হাজার বছরের মধ্যে বসবাস উপযোগী কোন গ্রহ পেয়ে যেহে পারে। সেখানে মানুষ পৃথিবীর মতোই স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারবে।” এক নাগাড়ে না থেমে মহামান্য কথাগুলো বলে ফেললেন।

সাইরাজ এতক্ষণ কোন কথা বলেনি। এবার সে বলল, “মহামান্য ক্ষমা করবেন, আপনি কি এটা প্রমাণ করতে পারবেন যে আমরা এই পৃথিবী থেকে বের হতে পারব।” আসলে সে অনিশ্চিতভাবে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল।

“আমি এটা প্রমাণ করতে পারব, এটা সত্যি। তবে তার আগে আমার কথা শোন সবাইকে ঘণ্টাখানিকের মধ্যে হলঘরে চলে আসতে বল। সবাইকে একসঙ্গে বলি।” কথা শেষ হওয়া মাত্রই যেমনভাবে হঠাৎ করে ঘরে ঢুকেছিলেন, তেমনি প্রায় দৌড়ে বের হয়ে গেলেন।
(ভাল কিংবা খারাপ অথবা বিরক্তিকর যা-ই লাগুক আপনারা মন্তব্য করুন। আপনাদের মন্তব্য আমাকে আরও ভাল কিছু লিখতে উৎসাহ দিবে।)


আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগত জানাই-

No comments:

Post a Comment

Followers

ছোট্ট একটি আইডিয়া আপনাকে কোটিপতি করে দিতে পারে !!!

এক লোক লেটেস্ট মডেলের একটা গাড়ি চালিয়ে দুর্গম এক এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাত তার গাড়ি নষ্ট হয়ে গেল। সে খুব চেষ্টা করল কিন্তু গাড়ি ঠিক করতে পারল না। ঠিক তখন কাছাকাছি একটা গ্যারেজ তার নজরে পড়ল। সেখানে খুব সাদামাটা এক মেকানিক পাওয়া গেল। গাড়িওয়ালা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি আমার গাড়িটা ঠিক করতে পারবে?” মেকানিক গাড়ির ইঞ্জিন কভার তুলে বলল, “পাড়ব।” তারপর মেকানিক তার হাতুড়ি দিয়ে একটা স্ক্রুর উপর গুনে গুনে ৬টা বাড়ি মেরে গাড়িওয়ালাকে বলল, “দেখেন, ঠিক হয়েছে কিনা?” গাড়িওয়ালা অবিশ্বাসের চোখে মেকানিকের দিকে তাকাল। তারপর স্টার্ট দিয়ে দেখল, গাড়ি ঠিক হয়ে গেছে।

গাড়িওয়ালার চোখে – মুখে বিস্ময়! বললেন, “মজুরী কত?”

মেকানিক বলল, “১০০ ডলার।”

“৬টা বাড়ির জন্য ১০০ ডলার! এটা তো ১ ডলারের বেশি হবার কথা না। তোমার মাথা ঠিক আছে?”

“হ্যাঁ স্যার, ৬টা বাড়ির জন্য ১ ডলারের বেশি হবার কথা না। বাকি ৯৯ ডলার হল কোন জায়গাতে বাড়ি মারলে আপনার গাড়ি স্টার্ট নিবে সেটা বুজতে পারার জন্য, জানার জন্য।”

ঠিক উপরের গল্পের মত আমি আপনাকে এমন একটি আইডিয়া দিতে পারি যার মাধ্যমে এককালীন মাত্র–

· => ৭৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ২৫ বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক হতে পারেন

· => ১৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ২০ বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক হতে পারেন

· => ৪০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ১৫ বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক হতে পারেন

আমি আপনাকে কোন এমএলএম কোম্পানিতে কিংবা জমিতে বিনিয়োগ করতে কিংবা আমাকে টাকা দিতে বলব না কিংবা আপনার টাকা নিয়ে কেউ উধাও হয়ে যাবে এমন কোথাও বিনিয়োগ করতে বলব না। আমি শুধু আপনাকে পথ দেখিয়ে দিব যে কোথায় আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে? কিভাবে বিনিয়োগ করতে হবে? শুধু বিনিয়োগের আইডিয়াটা আপনাকে দিব। বাদবাকি কাজ আপনিই করতে পারবেন। আইডিয়াটা জানার পর আপনি নিজেই বলবেন যে, “হ্যাঁ এটা আসলেই সম্ভব!” আমার আইডিয়া ব্যবহার করতে আপনাকে দিনে ১ মিনিটও সময় দিতে হবে না।

আপনি যদি কোটি টাকার মালিক হতে চান তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আমার আইডিয়া ব্যবহার করে আপনি যে নির্ধারিত বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক ইনশাল্লাহ হবেন সে সম্পর্কে সাহস নিয়ে আমি বলছি, আমি ১০০ টাকার ননজুডিসারি স্ট্যাম্পে লিখিত দিব, আমি এতটাই নিশ্চিত!

আপনি ঠকবেন না।

আপনার যে যোগ্যতা থাকতে হবেঃ ধৈর্য, ব্যাংক ইন্টারেস্ট সম্পর্কে সাধারন জ্ঞান, বয়স ন্যূনতম ২০ বছর, শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম ডিগ্রী স্টুডেন্ট আর সাহস করে কিছু করে ফেলার মানসিকতা যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে এই আইডিয়া আপনার জন্য। কি সাহস আছে?

যোগাযোগঃ

Muhmmad Anwarul Hoque Khan

Email: mahkbd@gmail.com

Linkedin: http://bd.linkedin.com/pub/muhammad-anwarul-hoq-khan/33/503/657


আমি আমার পুরো প্রোফাইল আপনাদের দিয়ে দিলাম। মনে রাখবেন, সৎ ভাবে দ্রুত বড়লোক হবার কোন পথ নাই। আমার আইডিয়া অনুযায়ী আপনার দরকার হবে শুধু ধৈর্য আর কিছুই না।