Monday, August 8, 2011

বৃহস্পতি সম্পর্কে জানাবে ‘জুনো’


সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি৷ এতটাই বড় যে, অনেকে বলেন এক বৃহস্পতির মধ্যে এক হাজারটি পৃথিবী অনায়াসে পুরে রাখা যাবে৷ বিজ্ঞানীদের ধারণা, সূর্যের জন্মের পরপরই গ্রহদের আবির্ভাব, এবং সেটা ৪৬৫ কোটি বছর আগে৷ আর গ্রহদের মধ্যে সবার আগে জন্ম নিয়েছিল বৃহস্পতি৷

তার মানে, একদিকে সবচেয়ে বড় আর অন্যদিকে সবার আগে তৈরি হওয়া গ্রহ হলো বৃহস্পতি৷ ফলে বিজ্ঞানীদের আগ্রহও এই গ্রহকে নিয়ে৷ কারণ, তাঁরা মনে করছেন যেহেতু সবার আগে এসেছে বৃহস্পতি, তাই এটাকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেই গ্রহগুলো কীভাবে তৈরি হলো সে সম্পর্কে জানা যাবে৷ এছাড়া বৃহস্পতির পরিবেশ সম্বন্ধে জানতে পারলে অন্য গ্রহ সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যেতে পারে৷

প্রথম অভিযান

এসব কারণে ১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মতো ‘গ্যালিলেও' নামের একটি মনুষ্যবিহীন স্পেসক্রাফট বা মহাকাশযান বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়৷ ছয় বছর পর ১৯৯৫ সালে এটি বৃহস্পতিতে পৌঁছায় এবং নানান তথ্য পাঠায়৷

জুনো

এবার আবার বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল মনুষ্যবিহীন আরেকটি মহাকাশযান - যার নাম ‘জুনো'৷ রোমান পুরাণের প্রধান দেবতা জুপিটার, যেটা বৃহস্পতিরও ইংরেজি নাম, তার স্ত্রী ছিলেন জুনো৷ জুপিটার শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘আকাশের পিতা'৷

শুক্রবার, মানে আগস্টের ৫ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কার্নিভাল থেকে যাত্রা শুরু হয়েছে জুনোর৷ ‘অ্যাটলাস ৫' রকেটে করে রওয়ানা দেয়ার ৫৩ মিনিট পর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাকাশের দিকে যাওয়া শুরু করে জুনো৷ এই দৃশ্য দেখতে প্রায় ১০ হাজার দর্শক জড়ো হয়েছিলেন৷
বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল মনুষ্যবিহীন আরেকটি মহাকাশযান - যার নাম ‘জুনো'

এসময় নাসা'র প্রধান চার্লস বাল্ডেন বলেন, এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হলো যে, মহাকাশ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে৷

এদিকে নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন সবকিছু ঠিক থাকলে পাঁচ বছর পর ২০১৬ সালের জুলাই মাসে বৃহস্পতিতে গিয়ে পৌঁছবে জুনো৷ এসময় পাড়ি দিতে হবে ৭১৬ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ৷ এই দীর্ঘ পথ চলতে ব্যবহৃত হবে শুধুমাত্র সৌরশক্তি৷ যদিও ২০০৩ সালে যখন প্রথমবারের মতো জুনো'র কথা বলা হয়েছিল তখন জ্বালানি হিসেবে কিছু পরমাণু শক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল৷

সৌরশক্তি ধরার জন্য জুনোর তিন ডানায় ১৮ হাজার সৌর কোষ লাগানো হয়েছে৷ কিন্তু বৃহস্পতিতে সূর্যের তেজ অনেক কম৷ সংখ্যার হিসেবে সেটা পৃথিবীর ২৫ ভাগের মাত্র এক ভাগ৷ ফলে কীভাবে শুধুমাত্র সৌরশক্তি ব্যবহার করে জুনো টিকে থাকবে সেটা প্রশ্ন ছিল সবার৷ উত্তরে জুনো মিশনের প্রধান বিজ্ঞানী স্কট বোল্টন বলেন, সৌর প্যানেলগুলো যেন শুধু সূর্যের দিকেই মুখ করে থাকে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে৷

গ্যালিলেওর চেয়েও বৃহস্পতির আরও কাছাকাছি যাওয়ার কথা রয়েছে জুনোর৷ ফলে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহটি সম্পর্কে এবার আরও বিস্তারিত তথ্য আশা করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা৷

শুধু নাসা নয়, জুনো মিশনে কিছুটা অবদান রেখেছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থাও৷ বৃহস্পতিতে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর জন্য জুনোতে যেসব যন্ত্রপাতি দেয়া হয়েছে সেসবের কিছুটা দিয়েছে ইটালি, বেলজিয়াম, ফ্রান্স আর ডেনমার্ক৷

কী তথ্য জানা যাবে

বৃহস্পতি সম্পর্কে দুটো প্রধান বিষয় জানার চেষ্টা করবেন বিজ্ঞানীরা৷ এক - সেখানে কী পরিমাণ পানি আছে, আর দুই - সেখানে শক্ত কোনো কিছু আছে কিনা, নাকি শুধুই গ্যাস আর গ্যাস৷ বৃহস্পতির ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা চৌম্বকীয় ক্ষেত্র সম্পর্কেও ধারণা পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা৷

জটিল সব যন্ত্রপাতি ছাড়াও জুনোতে কিছু খেলনা দিয়ে দেয়া হয়েছে৷ অংক আর বিজ্ঞান সম্পর্কে তরুণদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে৷

পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে একশো দশ কোটি ডলার৷

আজ থেকে চারশো বছর আগে ইটালির বিজ্ঞানী গ্যালিলেও তাঁর নিজের তৈরি দূরবীন দিয়ে বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ চিহ্নিত করেছিলেন৷ এবার দেখা যাক, এত টাকা খরচ করে কী আবিষ্কার করা যায়৷

No comments:

Post a Comment

Followers

ছোট্ট একটি আইডিয়া আপনাকে কোটিপতি করে দিতে পারে !!!

এক লোক লেটেস্ট মডেলের একটা গাড়ি চালিয়ে দুর্গম এক এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাত তার গাড়ি নষ্ট হয়ে গেল। সে খুব চেষ্টা করল কিন্তু গাড়ি ঠিক করতে পারল না। ঠিক তখন কাছাকাছি একটা গ্যারেজ তার নজরে পড়ল। সেখানে খুব সাদামাটা এক মেকানিক পাওয়া গেল। গাড়িওয়ালা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি আমার গাড়িটা ঠিক করতে পারবে?” মেকানিক গাড়ির ইঞ্জিন কভার তুলে বলল, “পাড়ব।” তারপর মেকানিক তার হাতুড়ি দিয়ে একটা স্ক্রুর উপর গুনে গুনে ৬টা বাড়ি মেরে গাড়িওয়ালাকে বলল, “দেখেন, ঠিক হয়েছে কিনা?” গাড়িওয়ালা অবিশ্বাসের চোখে মেকানিকের দিকে তাকাল। তারপর স্টার্ট দিয়ে দেখল, গাড়ি ঠিক হয়ে গেছে।

গাড়িওয়ালার চোখে – মুখে বিস্ময়! বললেন, “মজুরী কত?”

মেকানিক বলল, “১০০ ডলার।”

“৬টা বাড়ির জন্য ১০০ ডলার! এটা তো ১ ডলারের বেশি হবার কথা না। তোমার মাথা ঠিক আছে?”

“হ্যাঁ স্যার, ৬টা বাড়ির জন্য ১ ডলারের বেশি হবার কথা না। বাকি ৯৯ ডলার হল কোন জায়গাতে বাড়ি মারলে আপনার গাড়ি স্টার্ট নিবে সেটা বুজতে পারার জন্য, জানার জন্য।”

ঠিক উপরের গল্পের মত আমি আপনাকে এমন একটি আইডিয়া দিতে পারি যার মাধ্যমে এককালীন মাত্র–

· => ৭৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ২৫ বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক হতে পারেন

· => ১৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ২০ বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক হতে পারেন

· => ৪০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ১৫ বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক হতে পারেন

আমি আপনাকে কোন এমএলএম কোম্পানিতে কিংবা জমিতে বিনিয়োগ করতে কিংবা আমাকে টাকা দিতে বলব না কিংবা আপনার টাকা নিয়ে কেউ উধাও হয়ে যাবে এমন কোথাও বিনিয়োগ করতে বলব না। আমি শুধু আপনাকে পথ দেখিয়ে দিব যে কোথায় আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে? কিভাবে বিনিয়োগ করতে হবে? শুধু বিনিয়োগের আইডিয়াটা আপনাকে দিব। বাদবাকি কাজ আপনিই করতে পারবেন। আইডিয়াটা জানার পর আপনি নিজেই বলবেন যে, “হ্যাঁ এটা আসলেই সম্ভব!” আমার আইডিয়া ব্যবহার করতে আপনাকে দিনে ১ মিনিটও সময় দিতে হবে না।

আপনি যদি কোটি টাকার মালিক হতে চান তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আমার আইডিয়া ব্যবহার করে আপনি যে নির্ধারিত বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক ইনশাল্লাহ হবেন সে সম্পর্কে সাহস নিয়ে আমি বলছি, আমি ১০০ টাকার ননজুডিসারি স্ট্যাম্পে লিখিত দিব, আমি এতটাই নিশ্চিত!

আপনি ঠকবেন না।

আপনার যে যোগ্যতা থাকতে হবেঃ ধৈর্য, ব্যাংক ইন্টারেস্ট সম্পর্কে সাধারন জ্ঞান, বয়স ন্যূনতম ২০ বছর, শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম ডিগ্রী স্টুডেন্ট আর সাহস করে কিছু করে ফেলার মানসিকতা যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে এই আইডিয়া আপনার জন্য। কি সাহস আছে?

যোগাযোগঃ

Muhmmad Anwarul Hoque Khan

Email: mahkbd@gmail.com

Linkedin: http://bd.linkedin.com/pub/muhammad-anwarul-hoq-khan/33/503/657


আমি আমার পুরো প্রোফাইল আপনাদের দিয়ে দিলাম। মনে রাখবেন, সৎ ভাবে দ্রুত বড়লোক হবার কোন পথ নাই। আমার আইডিয়া অনুযায়ী আপনার দরকার হবে শুধু ধৈর্য আর কিছুই না।