একদিন পৃথিবীর সম্ভবত দুইটি চাঁদ ছিল। পরে ছোট চাঁদটি খুব ধীর গতিতে হয়তো বড় চাঁদটিতে আছড়ে পড়ে একটি চাঁদে পরিণত হয়েছে। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্যই বেড়িয়ে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, ওই ধরনের একটি স্লো মোশন বা ধীর গতির সংঘর্ষ যে ঘটেছিল তার ইঙ্গিত রয়েছে চাঁদের দূরবর্তী রহস্যময় পার্বত্য অঞ্চলে। ওই সংঘর্ষের কারণে কিছু উপাদানের অস্তিত্ব সেখানে পাওয়া যায়, কখনও কখনও যার দেখা মেলে চাঁদের গোলার্ধে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান বিষয় সাময়িকী নেচার-এ। বিবিসি
গবেষকরা বলছেন, তাদের এই তত্ত্ব আগামী বছরের মধ্যে নাসার দুটি চন্দ্র মিশন হয়তো সমর্থন করবে অথবা চ্যালেঞ্জ করবে। দশকের পর দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এটা বোঝার চেষ্টা করছেন যে, পৃথিবী থেকে চাঁদের যে অংশটা দেখা যায় অর্থাত্ সামনের অংশটা, সেটা কেনো ফ্ল্যাট বা সমতল। আর যে অংশটা দেখা যায় না বা দেখা যাওয়াটা বিরল, সেটা কেনইবা পর্বতময়। সেখানে ৩ হাজার মিটার উচ্চতার পর্বতও রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্নভাবে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে যার প্রায় সবই অনুমান নির্ভর।
গবেষকদের যুক্তি, ৪০০ কোটি বছর আগে মঙ্গল গ্রহের আকারের একটি গ্রহ পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। তখন যে ধুলির উদ্ভব হয়েছিল তাই এক সময় চাঁদে পরিণত হয়। এখন প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তে বিজ্ঞানীদের ধারণ সে সময় হয়তো একই পদার্থ দিয়ে আরেকটি ছোট চাঁদের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে সেটি এক সময় আছড়ে পরে বড় চাঁদটির ওপর।
বর্তমান গবেষণার সঙ্গে জড়িত সুইজারল্যান্ডের বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মার্টিন জুজি বলেন, আমরা যখন বর্তমান তত্বের দিকে তাকাই তখন একটা চাঁদ থাকার প্রকৃত কোনো কারণ খুঁজে পাইনা। তিনি বলেন, ছোট চাঁদটি সেকেন্ডে ২.৪ কিলোমিটার গতিতে বড় চাঁদটির ওপর আছড়ে পড়ে। এই গতি খুব ধীর হওয়ায় বড় ধরনের ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়নি এবং কিছু গলেও যায়নি।
No comments:
Post a Comment