
সম্প্রতি ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) নক্ষত্র সৃষ্টির চিত্র ধারণ করতে পেরেছে বলে দাবি করেছে। জানা গেছে, হার্শেল টেলিস্কোপ বা মহাকাশ দূরবীক্ষণের পাঠানো ছবিতে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। খবর বিবিসি অনলাইনের।
জ্যোর্তিবিদেরা জানিয়েছেন, এই সব ছবি বিশ্লেষণ করে কীভাবে ছায়াপথ বা নক্ষত্র সৃষ্টি হয়েছে তা জানা যাবে। উল্লেখ্য, হার্শেল মহাকাশে পাঠানো এযাবতকালের সবচেয়ে বড় দূরবীক্ষণ যন্ত্র।
বিবিসির বরাতে জানা গেছে, আগে যেসব তারকাকণার চিত্র ধারণ করা যেতো না হার্শেলের সাহায্যে সেসব অতিক্ষুদ্র তারকাকণারও ছবি তোলা গেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই নক্ষত্র কণাই গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ আর প্রাণ সৃষ্টির মূলে রয়েছে। মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য ও জীবনচক্র নিয়ে জানার জন্য বিজ্ঞানীরা এই কণার ইতিহাস জানাটা জরুরী বলে মনে করেন।
বৃটিশ রাদারফোর্ড অ্যাপলটন ল্যাবরেটরির গবেষক ব্রুস সুইনেয়ার্ড হার্শেল দূরবীক্ষণের স্পেকট্রাল এবং ফটোমেট্রিক ইমেজিং রিসিভার (স্পায়ার) ডিজাইন করেন যা এই দুরবীক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছে। হার্শেলে ব্যবহৃত তিনটি বৈজ্ঞানিক নিদের্শক যন্ত্রের সাহায্যে হার্শেল দুরবর্তী ইনফ্রারেড রশ্মি এবং সাব মিলিমিটার (বেতার) আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ব্যবহার করে গ্যাস ও ধুলার মেঘের ভিতর দিয়ে তারকা সৃষ্টির রহস্যের ছবি তোলে। এই ইনফ্রারেড রশ্মির ক্ষমতাই হার্শেলকে মহাকাশের আরও গভীরে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা দিয়েছে। ইনফ্রারেডের সাহায্যে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রথমদিকের ছায়াপথ দেখা গেছে।
সংবাদমাধ্যমটির বরাতে জানা গেছে, বৃটিশ বিজ্ঞানী সুইনেয়ার্ড আশা করছেন, সাম্প্রতিক গঠিত ছায়াপথ দেখে হার্শেল নক্ষত্রের গঠনের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবে। হার্শেলের নির্দেশিত হাজারো এরকম ছায়াপথ গবেষকদের ছায়াপথ গঠনের মডেল সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবে এবং নক্ষত্র কণার রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পর্কেও জানাতে পারবে। হার্শেলের তোলা একটি ছবিতে দেখা গেছে মহাকাশের শূন্যস্থান আসলে অতিক্ষুদ্র তারকাকণায় পূর্ণ।
জ্যোর্তিবিদরা এসব ছবি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ধারণা করছেন বিশ্ব সৃষ্টির কলাকৌশল বর্তমান ধারণার চেয়ে আরো জটিল ও ভিন্নমুখীও হতে পারে।
No comments:
Post a Comment