
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদে সৌরজগতের শীতলতম স্থান থাকতে পারে বলেই মনে করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। নাসার পাঠানো মহাকাশযান লুনার রিকোননাইসেনস অরবিটারের ডিভাইনার যন্ত্রের সাহায্যে চাঁদের স্থায়ী অন্ধকারাছন্ন আগ্নেয়গিরির মুখগহ্বরে পরীক্ষা চালিয়ে এই শীতলতম স্থানের খোঁজ পেয়েছেন তারা। খবর বিবিসি অনলাইনের।
বিবিসি জানিয়েছে, ডিভাইনারের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, চাঁদের উত্তর মেরু অঞ্চলে শীতের মাঝামাঝি সময়ে রাতে শীতলতম গর্তগুলোর বাইরের তাপমাত্রা শুন্যের নিচে ২৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (২৬ কেলভিন) পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। সৌরজগতের মধ্যে চাঁদেই তাপমাত্রার সর্বোচ্চ পার্থক্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, আমেরিকার জিওফিজিক্যাল ইউনিয়ন (এজিইউ)-এর শরৎকালীন সভায় ডিভাইনারের প্রধান অনুসন্ধানী কর্মকর্তা ডেভিড পেজ জানিয়েছেন, দিনের মাঝামাঝি সময়ে চাঁদের বিষুবরেখা অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে ১২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। কিন্তু রাতে মেরু অঞ্চলে এই তাপমাত্রা কমে শীতল হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ডিভাইনার ২০০৯ সালের জুন মাস থেকে চাঁদে একটানা কাজ করে যাচ্ছে। ডিভাইনারের তথ্যে জানা গেছে, চাঁদের দক্ষিণ গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি আর উত্তর গোলার্ধে মকরক্রান্তি।
বিবিসি আরো জানিয়েছে, বিজ্ঞানীরা জানান, চাঁদে এক ধরনের ঋতু বৈচিত্র্যও আছে। এক বছরের ব্যবধানে চাঁদ মেরু অক্ষে ১.৫৪ ডিগ্রি হেলে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কোন পার্থক্য ধরা না পড়লেও মেরু অঞ্চলে সূর্যের দিগন্ত রেখা বরাবর ৩ ডিগ্রি উচ্চতার পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে, তাপমাত্রায় আর ছায়াবিস্তারে তাৎপর্যপূর্ণ বৈচিত্র্যের পরিবর্তন ঘটে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ডিভাইনারের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দক্ষিণ মেরুর অন্ধকারাছন্ন গর্তগুলোতে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা হতে পারে মাইনাস ২৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের উত্তর মকরক্রান্তির হারমিট গুহা অন্ধকারে এই তাপমাত্রা হতে পারে মাইনাস ২৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণের প্রেইরি ও বস গুহা ও একই রকম শীতল হতে পারে বলেই বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। একই তাপমাত্রা থাকতে পারে নেপচুন গ্রহের কক্ষপথ পার হবার পর। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কোনো রকম আলো এই সব এলাকায় পৌঁছায় না।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, চাঁদে পানি আছে আর এক ধরনের উদ্বায়ী পদার্থ আছে যেগুলো সংরক্ষণে অধিক শীতল অবস্থার প্রয়োজন। এমন ধারণাটি আরো জোরালো হলো শীতলতম স্থান আবিষ্কারের এই ঘটনায়।
No comments:
Post a Comment