Saturday, August 27, 2011
কিয়ামত বা মহাপ্রলয় (শেষ পর্ব)
৫ম পর্বের পরের অংশ-
মহাবিশ্বের ধ্বংস হবে কি হবে না তা নিয়ে অবিশ্বাসীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং অবিশ্বাসের ঘোরে তারা এ ব্যাপারে সব সময়েই দ্বন্দে ভোগে। তবে আল্লাহতায়ালার প্রতিশ্রুত কিয়ামত যে অবশ্যই সংঘটিত হবে এবং অবিশ্বাসীরা অচিরেই তা জানতে পারবে, এবিষয়টি আল-কোরআনে প্রদত্ত ঐশী তথ্যসমূহে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মহাবিশ্বের ধ্বংস যে অবশ্বম্ভাবি, বর্তমান বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার আলোকে এর পক্ষেই বেশী সমর্থন পাওয়া যায়। তবে এই ঘটনা বৃহৎ সংকোচনের মাধ্যমে ঘটুক অথবা বস্তু ও প্রতিবস্তু জগতের মধ্যে সংঘর্ষের ফলেই ঘটুক না কেন, এর ফলে যে মহাবিশ্বের বর্তমান অবয়বের আমুল পরিবর্তন সাধিত হবে তাতে কোনই সন্দেহ নেই।
পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত বৈজ্ঞানিক তথ্যসমৃদ্ধ আয়াতগুলোর মধ্য থেকে কিয়ামত বা মহাপ্রলয় সম্পর্কিতকয়েকটি উল্লেখযোগ্য আয়াতের বাংলা আনুবাদ এই আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সেইসাথে কিয়ামত সম্পর্কে বর্তমান যুগের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও ধ্যান-ধারণা { স্টিফেন ডব্লু হকিং-এর সাড়া জাগানো গবেষণা-ধর্মী (A Brief History of Time) এবং (Blackhole And Baby Universes And Other Essays) -শত্রুজিত দাশগুপ্ত- কর্তৃক বাংলায় অনুবাদকৃত (কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস) ও (কৃষ্ণগহ্বর এবং শিশু-মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা)} নামক পুস্তক দুটি থেকে সংগৃহিত এবং পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ্ প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ইংগিতের সাথে সমন্বয় সৃষ্টির সাথে সাথে আমার নিজস্ব কিছু বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশই এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু। প্রকৃত খবর মহাজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালাই ভাল জানেন। সত্যের স্বরূপ উদঘাটনে যতটুকু সফলতা অর্জন করতে পেরেছি তার সবটুকুই আল-কোরআনের ঐশীবাণীসমূহের মর্ম সঠিকভাবে অনুধাবনের ফলেই সম্ভব হয়েছে। আর ব্যর্থতার জন্য একজন অতি সাধারন মানুষ হিসেবে আমার অযোগ্যতা ও অজ্ঞতাই সম্পূর্ণরূপে দায়ী। হে বিশ্ববিধাতা করুণাময় মহান আল্লাহ, সর্বপ্রকার অনিচ্ছাকৃত ভুল-ভ্রান্তির জন্য সর্বদা অবনত মস্তকে ক্ষমাভিক্ষা চাই।
বিজ্ঞান-
সৃষ্টির শুরুতে মহাবিশ্ব যখন উত্তর মেরুর মত একক বিন্দু ছিল তখন এর কোন অন্তর্বস্তু ছিল না। আক্ষরিক অর্থে সৃষ্টি শুরু হয়েছিল শুন্যতা থেকে। কিন্তু এখন মহাবিশ্বের যে অংশ আমরা পর্যবেক্ষণ করি তাতে রয়েছে অন্তত (১০ কে ১০ দ্বারা ৮০ বার গুণ করলে যত হয় তত সংখ্যক) কণিকা। এই সমস্ত কণিকা এল কোথা থেকে ? উত্তরটা হলো- অপেক্ষবাদ ও কণাবাদী বলবিদ্যা শক্তি থেকে বস্তু সৃষ্টি অনুমোদন করে। { কৃষ্ণগহ্বর এবং শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা- থেকে সংগৃহিত তথ্য অনুসারে }
কেয়ামত অর্থাৎ মহাপ্রলয়ের পর শুধুমাত্র ধ্বংস বা শেষ নয় বরং ধ্বংসের পর পরিবর্তীত আকারে পূণরায় সৃষ্টি শুরুর ইংগিতও আল-কোরআনে রয়েছে-
আল-কোরআন (Al-Quran)-
সূরা অনকাবুত- (29.Al-Ankaboot // The Spider) -আয়াত নং-১৯ ও ২০
.19أَوَلَمْ يَرَوْا كَيْفَ يُبْدِئُ اللَّهُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ
(২৯ : ১৯) অর্থ- তারা কি লক্ষ্য করে না, কিভাবে আল্লাহ মখলুক বা সৃষ্টিকে আরম্ভ করেন অর্থাৎ অস্তিত্বে আনেন, অতঃপর তিনি এর পূণরাবৃত্তি করেন ? এটা তো আল্লাহর জন্য সহজ।
(29 : 19)=And have they not seen, how Allah originates creation, then He will reproduce it? Undoubtedly, it is easy for Allah.
.20قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ ثُمَّ اللَّهُ يُنشِئُ النَّشْأَةَ الْآخِرَةَ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(২৯ : ২০) অর্থ- বল, পৃথিবীতে পরিভ্রমন কর এবং অনুধাবন কর, কিভাবে মাখলুক অর্থাৎ সৃষ্টি প্রকাশিত হলো, অতঃপর আল্লাহ বানাতে আরম্ভ করবেন পরবর্তী বিশ্ব বা পরকাল, আল্লাহ্ তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
(29 : 20) Say you, 'travel in the earth, then see, how Allah makes first, then Allah up brings the second growth. Undoubtedly Allah can do everything.
সূরা নাযিয়াত- (79.An-Naziat // Those Who Drag Forth) -আয়াত নং-১০ ও ১৩
.10يَقُولُونَ أَئِنَّا لَمَرْدُودُونَ فِي الْحَافِرَةِ
(৭৯ : ১০) অর্থ- তারা বলে, ‘আমরা কি উল্টোপথে বা প্রথম অবস্থায় প্রত্যাবর্তীত হবই’?
(79 : 10) The infidels say. "shall we really be returned to our former state"?
.13فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَاحِدَةٌ
(৭৯ : ১৩) অর্থ- এটা তো এক বিকট আওয়াজ।
(79 : 13) That is not but a mere scolding.
সূরা ইবরাহীম- (14.Ibrahim // Abraham) -অয়াত নং-৪৮
.48يَوْمَ تُبَدَّلُ الأَرْضُ غَيْرَ الأَرْضِ وَالسَّمَاوَاتُ وَبَرَزُواْ للّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ
(১৪ : ৪৮) অর্থ- যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তীত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশমন্ডলীও; এবং মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে, যিনি এক পরাক্রমশালী।
(14 : 48) The day when the earth shall be changed other than this earth and the spaces too, and all shall come out standing before Allah, the One Who is Dominant overall.
সূর রূম- (30.Ar-Room // The Romans) -আয়াত নং-২৫
.25وَمِنْ آيَاتِهِ أَن تَقُومَ السَّمَاء وَالْأَرْضُ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةً مِّنَ الْأَرْضِ إِذَا أَنتُمْ تَخْرُجُونَ
(৩০ : ২৫) অর্থ- তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে তাঁর আদেশে আসমান ও পৃথিবীর স্থিতি, অতঃপর অল্লাহ্ যখন মাটি থেকে তোমাদেরকে উঠবার জন্য একবার আহ্বান করবেন, তখন তোমরা উঠে আসবে।
(30 : 25) And of His signs is that the stability of the space and the earth by His command. Then when He will call you from the earth, henceforth you will come out.
সূরা রাহমান-আয়াত নং-৩১
(৫৫ : ৩১) ছানাফরুগু লাকুম আইয়্যুহাছ ছাক্বালা-ন।
{ ছাক্বালানি =(অর্থ)- দুটি ভারী জিনিস --১৫৪পৃষ্ঠা।
ছা =(অর্থ)- অচিরে, অদূর ভবিষ্যতে --২০৯পৃষ্ঠা। ফারাগ্তা =(অর্থ)- অবসর প্রাপ্ত হলো - ২৭০পৃষ্ঠা--(‘কোরআনের অভিধান’ -- মুনির উদ্দীন আহমদ ) }
{ (সাকালানি) শব্দটি - (সাকাল) -এর দ্বি-বচন। যে বস্তুর ওজন ও মূল্যমান সুবিদিত, আরবী ভাষায় তাকে বলা হয়। - (ছানাফরুগূ) শব্দটি - (ফারেগুন) থেকে উদ্ভুত, এর (অর্থ)- কর্মমুক্ত হওয়া --‘পবিত্র কোরআনুল করিম’-মূল:-তফসীরে মাআরেফুল ক্বোরআন’-(বাংলা অনুবাদ ও সংপ্তি তফসির )--অনুবাদ ও সম্পাদনা--মওলানা মুহিউদ্দীন খান--১৩১৯ ও ১৩২০পৃষ্ঠা। }
{ ফারেগুন =(অর্থ)- দায়িত্ব সম্পাদন করে অবসর প্রাপ্ত, দায়মুক্ত --‘আল-কাওসার’---মদীনা পাবলিকেশন্স। }
(৫৫ : ৩১) অর্থ:- ওহে দুই ‘ওজন-বিশিষ্ট বস্তু’ অচিরেই বা অদূর ভবিষ্যতে তোমাদের বিষয়ে মনোনিবেশ করব বা ফায়সালা করব বা অবসর নেব বা কর্মমুক্ত হব।
সূরা নাবা- (78.An-Naba // The Tidings) -আয়াত নং-১৮ ও ১৯
.18يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا
(৭৮ : ১৮) অর্থ- সেদিন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং তোমরা দলে দলে সমাগত হবে।
(78 : 18) The day when the trumpet shall be blown, and you will come in hosts.
.19وَفُتِحَتِ السَّمَاء فَكَانَتْ أَبْوَابًا
(৭৮ : ১৯) অর্থ- আকাশ উন্মূক্ত করা হবে, ফলে তা বহু দ্বার বিশিস্ট হবে।
(78 : 19) And the sky shall be opened up and it will become as doors.
সূরা যিলযিলা- (99.Az-Zalzala // The Earthquake) -আয়াত নং-(৪ - ৭)
.04يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا
(৯৯ : ০৪) অর্থ- সেদিন পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে,
(99 : 04) That day it (the earth) shall narrate all its news
.05بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَى لَهَا
(৯৯ : ০৫) অর্থ- কারণ তোমার প্রতিপালক তাকে আদেশ করবেন;
(99 : 5) For your Lord has sent command to her.
.06يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ
(৯৯ : ০৬) অর্থ- সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে বের হবে কারণ তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে দেখানো হবে;
(99 : 6) On that, day people will return towards their Lord being in different ways, so that they may he shown their deeds.
.07فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ
(৯৯ : ০৭) অর্থ- কেউ অণুপরিমান সৎকাজ করলে তাও দেখবে।
(99 : 7) Then whosoever has done good of an weight of an atom shall see it.
সূরা বায়্যিনাহ- (98.Al-Bayyina // The Clear Proof) -আয়াত নং-৭ ও ৮
.07إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُوْلَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ
(৯৮ : ০৭) অর্থ- যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ।
(98 : 7)) Undoubtedly, those who have faith and do righteous deeds,- they are the best of creatures.
.08جَزَاؤُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّهُ
(৯৮ : ০৮) অর্থ- তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে তাদের পুরষ্কার- স্থায়ী জান্নাত, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।
(98 : 08) Their recompense is with their Lord, gardens of habitation, beneath which flow streams, abiding therein forever, Allah is well pleased with them and they are pleased with Allah, This is for him who fears his Lord.
আলোচনা-
বিজ্ঞানের বর্ণনায় আমরা দেখেছি যে, অপেক্ষবাদ ও কণাবাদী বলবিদ্যা শক্তি থেকে পদার্থ সৃষ্টি অনুমোদন করে। (২৯:১৯,২০) নং আয়াত থেকে আমরা বুঝে নিতে পারি যে, পরাক্রমশালী সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা (শক্তি থেকে ) আবার পরকালের পৃথিবী ও আসমান সৃষ্টি করবেন, যেভাবে তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন এবং এর জন্য মহান স্রষ্টার এক মূহুর্তের ইচ্ছা ও ইশারাই যথেষ্ট। পূণরায় সৃষ্টি আরম্ভের সাথে (বিগ-ব্যাঙের মত বিস্ফোরণ জনিত) বিকট শব্দের যে একটা সম্পর্ক রয়েছে, (৭৯:১০ ও ১৩) নং আয়াতে সে বিষয়ে ইংগিত দেয়া হয়েছে। তবে (১৪:৪৮) নং আয়াত থেকে বুঝে নেয়া যায় যে সেই আসমান ও পৃথিবী বর্তমানের আসমান ও পৃথিবী থেকে নিশ্চয়ই ভিন্নতর অর্থাৎ পরিবর্তীত রূপে প্রকাশিত হবে। যেহেতু (৫৫:৩১) নং আয়াতে দুই ওজন-বিশিষ্ট বস্তু অর্থাৎ কণিকা ও বিপরীত কণিকা সম্পর্কে ফায়সালা করা হবে অর্থাৎ চরম সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে বলে ইংগিত দেয়া হয়েছে, সুতরাং পরকালের আসমান ও পৃথিবী যে কণিকা বা বিপরীত কাণকা দ্বারা গঠিত হবে না, তা সহজেই অনুমান করা যায়। তবে আল্লাহতায়ালার আদেশে এমন কোন শাশ্বত ও প্রকৃত কণিকা দ্বারা গঠিত হবে, যা (৩০:২৫) নং আয়াত অনুসারে আল্লাহপাকের ইচ্ছায় অনন্তকাল স্থায়ী হবে। (৭৮:১৮) নং আয়তে এই ইংগিত দেয়া হয়েছে যে, জগৎসমূহের স্রষ্টা সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার আদেশে শিংগার ফুৎকারে আমরা পূণরায় আমাদের দেহ ও জীবন লাভ করব এবং সেই পরিবর্তীত পৃথিবীতে দলে দলে সমাগত হব। পরকলের সেই আসমানে ডাইমেনশন বা মাত্রাগত কোন স্তর-ভেদ থাকবে না। ফলে (৭৮:১৯) নং আয়াতে দেয়া তথ্যমতে আসমান সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত থাকবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বেহেশ্ত ও দোজখে প্রবেশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে। (৯৯:৪ - ৮) নং আয়াতগুলো থেকে অনুমান করা যায় যে, মানুষের অণু পরিমাণ সৎকাজ বা অসৎকাজ সবই এই পৃথিবীর প্রতিটি অণু ও পরমাণুতে সংরক্ষিত অর্থাৎ রেকর্ড করে রাখা আছে এবং তা মহান আল্লাহতায়ালার আদেশে শেষ বিচারের দিনে প্রত্যেকের সামনে উপস্থাপন ও প্রদর্শন করা হবে। বর্তমানে বিজ্ঞানের সহায়তায় এই পৃথিবীর বিভিন্ন উপকরণকে কাজে লাগিয়ে যেমন করে মানুষ তাদের কথা, গান, অভিনয়, ভাষন ইত্যাদি রেকর্ড করছে এবং সেগুলো আবার শব্দশক্তি ও আলোকশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমপ্রচারের মাধ্যমে স্বয়ং অভিনেতা, বক্তাসহ অন্যান্য সকল দর্শক ও শ্রতাদের সামনে রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা, কম্পিউটার ইত্যাদির পর্দায় উপস্থাপন ও প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি যুগ যুগ ধরে দিনের পর দিন এগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে। সুতরাং একালের কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের মত পরকালে পৃথিবীর হার্ডডিস্ক থেকে প্রতিটি মানুষের নামে রেকর্ডকৃত নির্দিষ্ট কোড সম্বিলত ফাইল থেকে ভাল ও মন্দ তথ্যগুলো বের করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি তথা সবার সামনে প্রদর্শন করা হবে এবং যা সর্বদ্রষ্টা মহান আল্ল¬¬াহতায়ালার কাছে খুবই সহজ ব্যাপার। যেহেতু পরকালের আসমান ও পৃথিবী শাশ্বত ও প্রকৃত কণিকা দ্বারা গঠিত হবে এবং মহান আল্লাহতায়ালা সেই পৃথিবীর মাটি থেকে আমাদেরকে উঠবার জন্য আহ্বান করার সাথে সাথে আমরা দলে দলে তাঁর সামনে গিয়ে হাজির হব, সুতরাং আমাদের দেহগুলোও হয়ত তখন শাশ্বত ও প্রকৃত কণিকা দ্বারা গঠিত হবে। যেহেতু শাশ্বত ও প্রকৃত কণিকাগুলো কখনো ক্ষয় বা ধ্বংস হবে না, সুতরাং (৯৮:৭,৮) ও (৭৮:২১,২২,২৩) নং আয়াতে দেয়া ইংগিত অনুসারে শেষ বিচারের পর ইহকালীন কর্মফল ও আল্লাহতায়ালার ইচ্ছানুযায়ী আমরা অনন্তকাল যাবৎ বেহেশতের সুখ ও দোজখের যন্ত্রনা ভোগ করতে থাকব।
সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এক আল্লাহর আদেশে যে অলৌকিক ঘটনাগুলো পূর্বে ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে ঘটবে বলে আল-কোরআনে ইংগিত দেয়া হয়েছে, সেগুলো গতানুগতিক প্রাকৃতিক নিয়মের সাথে খাপখায়না, তাই অসম্ভব বলে মনে হতে পারে। কিন্তু নিয়মের যিনি স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রণকারী তিনি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তাঁর অসীম শক্তির নিদর্শণ স্বরূপ অলৌকিক ঘটনাগুলো ঘটিয়ে থাকেন এবং মানুষকে শিক্ষাদানের জন্য ঐশী-বাণীর মাধ্যমে উপমা হিসেবে সময়মত জানিয়ে দেন। আর এভাবে আল্লাহতায়ালা মানুষকে পরীক্ষা করেন যে তাঁর অসীম শক্তি ও ঐশীবাণীর উপর কে কতটুকু বিশ্বাস স্থাপন করতে প্রস্তুত। সুতরাং আজগুবি গল্প ভেবে হুজুগে মেতে অবহেলা না করে ধৈর্য্যের সাথে গবেষণারত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আল-কোরআন (Al-Quran)-
সূরা মু’মিনুন- (23.Al-Mumenoon // The Believers) -আয়াত নং-৫৩
. 53فَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ زُبُرًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ
(২৩ : ৫৩) অর্থ- রসূলগণের তিরোধানের পর প্রত্যেক সমপ্রদায়ই রসূলের শিক্ষা বিসর্জন দিয়ে স্ব-স্ব প্রবৃত্তির অনুসরনে লিপ্ত ছিল।
(23 : 53) Then their people cut up their affairs among themselves. Each group is happy over that what is with them.
সূরা Avw¤^qv- (21.Al-Anbiya // The Prophets) -আয়াত নং-১ ও ২
.01اقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ مَّعْرِضُونَ
(২১ :০১) অর্থ- মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় আসন্ন, কিন্তু ওরা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে রয়েছে।
(21 : 1) The accountability of the people is near and they have turned their faces in heedlessness.
.02مَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مَّن رَّبِّهِم مُّحْدَثٍ إِلَّا اسْتَمَعُوهُ وَهُمْ يَلْعَبُونَ
(২১ : ০২) অর্থ- যখনই ওদের নিকট ওদের প্রতিপালকের কোন নুতন উপদেশ আসে ওরা তা কৌতুকাচ্ছলে শ্রবণ করে।
(21 : 02) Whenever any admonition comes to them from their Lord, they hear it not but sporting.
কিয়ামত আসন্ন ও অবশ্যম্ভাবী। সুতরাং আসুন আর স্ব-স্ব প্রবৃত্তির অনুসরণ করে অবহেলা ও অমনযোগীতার মধ্যে এক মূহুর্তও সময় নষ্ট না করে আল-কোরআন ও সুন্নাহর প্রদর্শিত পথে সঠিকভাবে চলার জন্য দৃপ্ত শপৎ গ্রহন করি এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালের শান্তি ও মুক্তির পথকে সুগম ও সফল করে তুলবার জন্য সচেষ্ট হই। (সমাপ্ত)
http://www.somewhereinblog.net/blog/Mahfuzhappy/28926196
Followers
ছোট্ট একটি আইডিয়া আপনাকে কোটিপতি করে দিতে পারে !!!
এক লোক লেটেস্ট মডেলের একটা গাড়ি চালিয়ে দুর্গম এক এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাত তার গাড়ি নষ্ট হয়ে গেল। সে খুব চেষ্টা করল কিন্তু গাড়ি ঠিক করতে পারল না। ঠিক তখন কাছাকাছি একটা গ্যারেজ তার নজরে পড়ল। সেখানে খুব সাদামাটা এক মেকানিক পাওয়া গেল। গাড়িওয়ালা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি আমার গাড়িটা ঠিক করতে পারবে?” মেকানিক গাড়ির ইঞ্জিন কভার তুলে বলল, “পাড়ব।” তারপর মেকানিক তার হাতুড়ি দিয়ে একটা স্ক্রুর উপর গুনে গুনে ৬টা বাড়ি মেরে গাড়িওয়ালাকে বলল, “দেখেন, ঠিক হয়েছে কিনা?” গাড়িওয়ালা অবিশ্বাসের চোখে মেকানিকের দিকে তাকাল। তারপর স্টার্ট দিয়ে দেখল, গাড়ি ঠিক হয়ে গেছে।
গাড়িওয়ালার চোখে – মুখে বিস্ময়! বললেন, “মজুরী কত?”
মেকানিক বলল, “১০০ ডলার।”
“৬টা বাড়ির জন্য ১০০ ডলার! এটা তো ১ ডলারের বেশি হবার কথা না। তোমার মাথা ঠিক আছে?”
“হ্যাঁ স্যার, ৬টা বাড়ির জন্য ১ ডলারের বেশি হবার কথা না। বাকি ৯৯ ডলার হল কোন জায়গাতে বাড়ি মারলে আপনার গাড়ি স্টার্ট নিবে সেটা বুজতে পারার জন্য, জানার জন্য।”
ঠিক উপরের গল্পের মত আমি আপনাকে এমন একটি আইডিয়া দিতে পারি যার মাধ্যমে এককালীন মাত্র–
· => ৭৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ২৫ বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক হতে পারেন
· => ১৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ২০ বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক হতে পারেন
· => ৪০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ১৫ বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক হতে পারেন
আমি আপনাকে কোন এমএলএম কোম্পানিতে কিংবা জমিতে বিনিয়োগ করতে কিংবা আমাকে টাকা দিতে বলব না কিংবা আপনার টাকা নিয়ে কেউ উধাও হয়ে যাবে এমন কোথাও বিনিয়োগ করতে বলব না। আমি শুধু আপনাকে পথ দেখিয়ে দিব যে কোথায় আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে? কিভাবে বিনিয়োগ করতে হবে? শুধু বিনিয়োগের আইডিয়াটা আপনাকে দিব। বাদবাকি কাজ আপনিই করতে পারবেন। আইডিয়াটা জানার পর আপনি নিজেই বলবেন যে, “হ্যাঁ এটা আসলেই সম্ভব!” আমার আইডিয়া ব্যবহার করতে আপনাকে দিনে ১ মিনিটও সময় দিতে হবে না।
আপনি যদি কোটি টাকার মালিক হতে চান তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
আমার আইডিয়া ব্যবহার করে আপনি যে নির্ধারিত বছরে ন্যূনতম ১ কোটি টাকার মালিক ইনশাল্লাহ হবেন সে সম্পর্কে সাহস নিয়ে আমি বলছি, আমি ১০০ টাকার ননজুডিসারি স্ট্যাম্পে লিখিত দিব, আমি এতটাই নিশ্চিত!
আপনি ঠকবেন না।
আপনার যে যোগ্যতা থাকতে হবেঃ ধৈর্য, ব্যাংক ইন্টারেস্ট সম্পর্কে সাধারন জ্ঞান, বয়স ন্যূনতম ২০ বছর, শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম ডিগ্রী স্টুডেন্ট আর সাহস করে কিছু করে ফেলার মানসিকতা যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে এই আইডিয়া আপনার জন্য। কি সাহস আছে?
যোগাযোগঃ
Muhmmad Anwarul Hoque Khan
Email: mahkbd@gmail.com
Linkedin: http://bd.linkedin.com/pub/muhammad-anwarul-hoq-khan/33/503/657
আমি আমার পুরো প্রোফাইল আপনাদের দিয়ে দিলাম। মনে রাখবেন, সৎ ভাবে দ্রুত বড়লোক হবার কোন পথ নাই। আমার আইডিয়া অনুযায়ী আপনার দরকার হবে শুধু ধৈর্য আর কিছুই না।
No comments:
Post a Comment