
সম্প্রতি ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইসএ) এর পাঠানো গোসি (দ্যা গ্রাভিটি ফিল্ড অ্যান্ড স্টেডি সেট ওসেন সার্কুলেশন এক্সপ্লোরার) উপগ্রহের সাহায্যে সঠিকভাবে পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ মাপা গেছে বলেই জানা গেছে। খবর বিবিসি অনলাইনের।
এদিকে গবেষকদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, আগের পরিমাপ করা ভূমি ও আকাশের উপাত্তের চেয়ে এটি আরও সঠিক ও বিস্তারিত উপাত্ত বের করে এনেছে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের প্লেসেটস্ক কসমোড্রোম থেকে ২০০৯ এর মার্চে গোসি উপগ্রহ পাঠানো হয়েছিলো।
গবেষকরা আশা করছেন যে, গোসির পাঠানো উপাত্ত থেকে আরো জানা যাবে কীভাবে সমুদ্রের আবর্তন ঘটে। পাশাপাশি, এমন একটি বৈশ্বিক কাঠামো দাঁড় করানো যাবে যাতে পৃথিবীর যে কোনো স্থানের উচ্চতা মাপাও সম্ভবপর হবে। এইসব তথ্য ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বিষয়ে কাজ করছেন এমন গবেষকদেরও কাজে আসবে বলেই জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়ন (এজিইউ) গোসির পর্যবেক্ষণে পাওয়া এইসব উপাত্ত নিয়ে পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ নির্ণয়ের বিষয়টি ঘোষণা করবে আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটির পরবর্তী মিটিংয়ে। আসন্ন এই মিটিং-কে বলা হচ্ছে মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্মেলন।
ইসএ-এর গোসি মিশন ম্যানেজার রুনি ফোবার্গহাগেন জানিয়েছেন, গোসির উপাত্তে দারুণ সব বিষয় বেরিয়ে এসেছে। আন্দেজ পর্বতমালার রেঞ্জ, মেরিনা ট্রেঞ্চ, ইন্দোনেশিয়ান আর্ক বা হিমালয়ের তথ্যও বের করা যাবে এসব উপাত্তের সাহায্যে। প্রতিটি মহাদেশের বিচিত্র সব তথ্য জানাবে গোসি।
সংবাদমাধ্যমটির বরাতে আরো জানা গেছে, ফ্রান্সের অনেরা কোম্পানির তৈরি করা সর্বোচ্চ মানের যন্ত্রের সাহায্যেই গোসির এই উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, মহাকাশে পাঠানোর পর থেকে সাফল্যের সঙ্গে গোসি তথ্য পাঠিয়ে যাচ্ছে। আগামি পাঁচ বছর আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোসির কাছ থেকে পাওয়া যাবে বলেই মনে করছেন তারা।
No comments:
Post a Comment