
সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষকরা জানিয়েছেন, আমাদের ছায়াপথকে ঘিরে রাখা বিশাল বিশাল ফাঁকা স্থানের ডার্ক ম্যাটার আসলে দেখতে ফোলানো বিচ বল আকৃতির। খবর বিবিসি অনলাইনের।
সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, এই প্রথম ডার্ক ম্যাটারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া সম্ভব হলো। প্রকৃতপক্ষে মহাবিশ্বের বেশিরভাগ ভরই ডার্ক ম্যাটার দিয়ে তৈরি। সম্প্রতি স্যাজিটেরিয়াস নামের একটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ যা আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথকে আবর্তন করছে, তার ফেলে যাওয়া বিভিন্ন বস্তু থেকে বিজ্ঞানীরা এ সিদ্ধান্তে এসেছেন।
ডার্ক ম্যাটার হলো রহস্যময় একটি পদার্থ যেটির মোট ভর আমাদের মহাবিশ্বের প্রায় এক চতুর্থাংশ ভরের সমান।
অনেক বামন গ্যালাক্সিই আমাদের মিল্কিওয়েকে ঘিরে আবর্তন করছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক ড. ডেভিড ল বলছেন, এই আবর্তনের পথ বের করার ফলেই জানা সম্ভব হয়েছে আসলে এ গ্যালাক্সির মূল ভর কোথায় অবস্থিত।
ডার্ক ম্যাটার আলোর সঙ্গে সংবেদনশীল না হওয়াতে এখনও তা অদৃশ্যই থেকে গেছে। তবে, যেহেতু ভর আছে, তাই এর অবস্থান জানা যায় মধ্যাকর্ষণ শক্তি থেকে।
মার্কিন গবেষক ডেভিড ল আরো জানিয়েছেন যে, এটি সরাসরি দেখা না গেলেও এর প্রভাব ও এর নাক্ষত্রিক গঠন, নক্ষত্র গুচ্ছ, বামন গ্যালাক্সির যাওয়া ও মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের চারপাশে ঘোরা অবস্থায় একে বোঝা যাবে। তাই এর মানচিত্র তৈরি করতে তারকা গুচ্ছ, বামন গ্যালাক্সির যাওয়া ও কিভাবে এর আবর্তন পথ তৈরি হচ্ছে সেটি খেয়াল রাখতে হয়।
ড. ল ও তার সহকর্মীরা ছায়াপথের ডার্ক ম্যাটার রহস্য সমাধানে স্যাজিটেরিয়াস বামন গ্যালাক্সির ডার্ক ম্যাটার তুলনা করেন।
উল্লেখ্য, কিছুদিন পরই শুরু হচ্ছে ২১৫ তম আমেরিকান আ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি মিটিং যা মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্মেলন। ৩ হাজার ৪০০ গবেষকের সেই সম্মেলনেই নতুন এই আবিস্কারের ঘোষণা আসতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
No comments:
Post a Comment