
সম্প্রতি জানা গেছে, প্রাচীন মিশরের সেই সমস্ত ঐতিহাসিক পিরামিডগুলো ক্রীতদাসদের নয় বরং সেই সময়ের স্বাধীন কর্মীদেরই বানানো। পিরামিডের পাশে সম্প্রতি আবিষ্কৃত সমাধিগুলোও সেই কথাই বলে। খবর বিবিসির।
জানা গেছে মিশরের খুফু (সিয়পস) এবং খাফ্রে (সিফ্রান) পিরামিড দুটি তৈরির পেছনে যে সমস্ত কর্মীরা ছিলেন তাদেরকে মৃত্যুর পরে পিরামিডের পাশেই সমাহিত করা হয়েছিলো। সমাধির এই অবস্থানই বলে দিচ্ছে যে, তারা ক্রীতদাস ছিলেন না। কারণ, সে ক্ষেত্রে তাদেরকে পিরামিডের পাশে নয় বরং অন্য কোথাও সমাহিত করা হতো।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মিশরের প্রধান প্রত্নতত্ত্ববিদ জাহি হাওয়াস এর মতে, যেহেতু রাজার পিরামিডের পাশে কর্মীদের সমাধির অবস্থান সেহেতু তারা কোনভাবেই ক্রীতদাস হতে পারে না। ড. হাওয়াস বলেছেন, ‘তারা যদি ক্রীতদাস হতো তাহলে তাদেরকে রাজার পাশে কোনোভাবেই সমাধিস্থ করা হতো না’।
ড. হাওয়াস আরো জানিয়েছেন, চারহাজার পাঁচশো বছর আগেকার এই সমাধিগুলো শুকনো কাদামাটিতে বানানো ইট দিয়ে তৈরি। প্রায় দশ হাজার শ্রমিক পিরামিড তৈরির কাজে নিযুক্ত ছিলেন। জানা গেছে, পিরামিডের আশপাশের খামার থেকে তাদের আহার হিসেবে প্রতিদিন ২১টি গরু ও ২৩টি ভেড়া সরবরাহ করা হতো।
যেসব কৃষক এইসব প্রাণী সরবরাহ করতেন তারা সরকারকে কোন খাজনা দিতেন না। তবে তারা জাতীয় প্রকল্পগুলোর কোনো একটিতে অংশগ্রহণ করতেন। জানা গেছে, ৩ মাসের জন্য শ্রমিকেরা নিযুক্ত হতেন। খ্রিস্টপূর্ব ২৬৪৯-২৩৭৪ সালে যারা পিরামিড নির্মাণের সময় মারা গিয়েছেন তাদেরই নতুন আবিষ্কৃত এই সমাধিগুলোতে সমাহিত করা হয়েছিলো বলে সংবাদমাধ্যমটির বরাতে জানা গেছে।
দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা ছিলো পিরামিড তৈরি হয়েছিলো ক্রীতদাসদের দ্বারা। অবশ্য মিশর কর্তৃপক্ষ সবসময়ই এই মতবাদের তীব্র বিরোধিতা করে এসেছেন। তাদের মতে, ক্রীতদাস তত্ত্বের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে পিরামিডের নির্মাণ শৈলী ও মিশরের উৎকর্ষতাকে খাটো করা হয়। সাম্প্রতিক এই আবিষ্কারটি মিশরীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্যকেই সঠিক বলে প্রমাণ করলো।
No comments:
Post a Comment